ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শিশু হাসপাতালের কক্ষে বসে চিকিৎসকের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শাহজালালে এখন পর্যন্ত ১১৪ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৭,৭০১ যাত্রী খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশ অচলকারীদের সঙ্গী বর্তমান বিরোধী দল: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি ‘ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার, নিশ্চিন্তে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন’ জুলাই সনদ পাশ কাটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: আলী রীয়াজ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত সব হাসপাতালের লাইব্রেরিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা ৩ বই রাখার নির্দেশ কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অ’গ্নিকাণ্ডের পর লাপাত্তা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

জানুয়ারি-জুন প্রান্তিকে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় কমেছে

ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় কি হঠাৎ করেই কমে গেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলো যে
  • আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময়
  • আপডেট সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময়
জানুয়ারি-জুন প্রান্তিকে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় কমেছে

ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় কি হঠাৎ করেই কমে গেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলো যে অর্থ ব্যয় করে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সেই ব্যয়ে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। আগের ছয় মাসের তুলনায় ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু কোন খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে, আর কোন খাতে কমেছে সবচেয়ে বেশি? বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৬১টি তপশিলি ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমে মোট ১১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অথচ এর আগের বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর এ খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে অন্যান্য কার্যক্রমে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই অর্থের বড় অংশই গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য উপখাতে ৫ কোটি ৮৩ লাখ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে ৪ কোটি ৪৬ লাখ, অবকাঠামো উন্নয়নে ২ কোটি ২ লাখ এবং আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রমে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় ত্রাণ তহবিলে অনুদান এবং শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণেও অর্থ দেওয়া হয়েছে। ব্যয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অংশ গেছে স্বাস্থ্য খাতে। এ খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ। হতদরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক অনুদানে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও সহায়তা দিয়েছে ব্যাংকগুলো।


শিক্ষা খাতেও ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আগের ছয় মাসে শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছিল ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে ব্যয় কমেছে ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ব্যয় কমেছে আরও বেশি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের ছয় মাসে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এ খাতের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবিষয়ক গবেষণা, মৎস্যজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা।


ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী হিসাব করলে দেখা যায়, সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক এ খাতে ব্যয় করেছে ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট ব্যয়ের ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি ব্যয় করেছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে দুটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১১ লাখ টাকা। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ১০টি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তবে এর মধ্যে আগের বছরে অর্জিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে এসেছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। বাকি ১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা এসেছে অন্যান্য উৎস থেকে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর এ খাতের ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই এসেছে ২০২৫ সালের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে।


শুধু ব্যাংক নয়, দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমও পর্যালোচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যয় করেছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৭৭ লাখ ৪৯ হাজার, শিক্ষা খাতে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার এবং অন্যান্য খাতে ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ব্যয়ে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী ছয় মাসে এ ব্যয় আবার বাড়বে, নাকি সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দ আরও কমবে?

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতে এখন আন্দোলন করতেও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা

ভারতে এখন আন্দোলন করতেও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা