যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু তাতেও কি যুদ্ধের আশঙ্কা কাটছে না? ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা চললেও ইরানকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরে তা ভঙ্গ করে। তাহলে কি কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নতুন সংঘাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তেহরান?
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, এক টেলিভিশন ভাষণে এসব মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরানের প্রধান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা। তবে শুধু আলোচনার ওপর নির্ভর করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি। গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটি ইরানের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন অতীতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা ভঙ্গ করেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতিও বজায় রাখতে হবে ইরানকে।
ইরানের এই পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, অন্যায়কারী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গালিবাফের বক্তব্য, ওয়াশিংটনকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং ইরানের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করার পাশাপাশি ইরানের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে গালিবাফের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। অর্থাৎ, কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে চাইছে না তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের জবাবে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে কিছু উল্লেখ নেই। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো সীমিত। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে ইরান। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, দুই দেশ কি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধানে পৌঁছাতে পারবে, নাকি পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে? আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন