যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানা পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবে না ইরান! দীর্ঘস্থায়ী লড়াইও চায় না, আবার অন্তহীন আলোচনাতেও বসতে রাজি নয় তেহরান। তাহলে শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত? এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে গেছে দুটি জাহাজ, আর যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কিংবা টানা আলোচনা—কোনোটিই ইরানের লক্ষ্য নয়। তবে ওয়াশিংটন ইরানের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তেহরান।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সুদৃঢ় করতে হবে। তার মতে, সামরিক বিজয় অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সেই সাফল্যকে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি বলেন, এর অর্থ অন্তহীন যুদ্ধ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা নয়। বরং শত্রুপক্ষকে চাপে ফেলে নিজেদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সহজে সরে আসতে চাইছে না তেহরান।
এদিকে, সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতেও। ওই অঞ্চলের কাছে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তু আঘাত হানে বলে জানা গেছে। অন্য জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায় বলে খবর এসেছে। অব্যাহত হামলার কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের গতি কমে এসেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এখানে অস্থিতিশীলতা বাড়লে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হারিয়েছে। অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের অনেকে নিহত হয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় সারির নেতাদের মধ্যেও অনেকে মারা গেছেন এবং তৃতীয় সারির নেতৃত্বেরও একটি অংশ আর নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে তাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে একদিকে ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে ইরানের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান—সব মিলিয়ে সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তার ওপর হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত সামরিক চাপ, রাজনৈতিক দর-কষাকষি নাকি নতুন কোনো সমঝোতা—কোন পথে এই সংঘাতের অবসান হবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন