সমাজ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজস্ব প্রচেষ্টায় কাজ করা মানুষের অবদান অত্যন্ত অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, "এ জাতীয় ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ অন্যান্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করবে এবং সমাজসেবায় এগিয়ে আসতে সাহস যোগাবে।"
বুধবার অপরাহ্ণে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কাজের মাধ্যমে সমাজে অনন্য নজির স্থাপনকারী তিন প্রেরণার উৎসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন - বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং একক প্রদেষ্টায় হাজার হাজার গাছ রোপণকারী রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী এসব মানুষ গভীরভাবে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাদের জীবনসংগ্রাম, ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা শোনেন। তিনি তাদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, "সমৃদ্ধ দেশ পুনর্গঠনে আপনাদের মতো আত্মনিবেদিত মানুষের খুব প্রয়োজন। দেশের সবাই এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে রূপান্তর সহজ হবে।"
উপ-প্রেস সচিব জানান, কথোপকথনে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী কর্মজীবন বেছে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। বুয়েট থেকে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে সাফল্য পেলেও তিনি সরকারি ক্যাডার পদে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর পথ বেছে নেন। বিগত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনা সহজ করতে তিনি নিজেই বিভিন্ন শিক্ষাউপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত করেন।অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার, তবে দুই হাত না থাকলেও তা তার চলার পথ থামাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখা রপ্ত করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় তিনি গড়ে তোলেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের জমানো টাকা ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আলতাফ হোসেন নিজ পায়ে লিখেই বিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করেন। তার এই সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজ খরচে ও পরিশ্রমে রাস্তার দুই পাশে অগণিত বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেশায় ইমাম হওয়ার পাশাপাশি তিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেন। তার লাগানো অধিকাংশ গাছই এখন পথচারীদের শীতল ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের কাজের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন, এই পথচলা অব্যাহত রাখতে উদ্দীপনা যোগান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন