চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজের উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন দেখছেন কতজন তরুণ? এবার সেই ভাবনাতেই জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তাঁর আহ্বান, তরুণেরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার উদ্যোগ নিলে সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, জীবনে বড় হওয়া মানে শুধু ভালো ফলাফল বা প্রতিষ্ঠিত হওয়া নয়, একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার ৯ অক্টোবর ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজন সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, জীবনে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে সবকিছুর আগে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় ভালো মানুষ হওয়ার মূল্য আরও বেশি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের অর্জনকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে না দেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে কবি, লেখক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন এই উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও এ অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়ালে এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে নিজের ঘর থেকেই। পরিবার, সমাজ ও নিজ এলাকার প্রতি দায়িত্ব পালন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে বড় পরিবর্তন আসে। নিজের শিকড়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা নয়; বরং নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করলে তার ইতিবাচক প্রভাব একসময় সারা দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আরেকটি আহ্বান ছিল, জীবনে যত বড়ই হওয়া হোক না কেন, নিজের শিকড়, পরিবার, শিক্ষক ও এলাকার কথা যেন কেউ ভুলে না যায়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও কাজ করতে হবে। তিনি এমন একটি বৃহত্তর নোয়াখালী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী স্বপ্ন হারাবে না, কর্মসংস্থানের অভাবে কোনো তরুণ নিজের সম্ভাবনা হারাবে না এবং বিপদের সময় কোনো পরিবার নিজেকে অসহায় মনে করবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য মানবিক ও দক্ষ মানুষ গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের হয়। পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার চর্চার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিঝুম দ্বীপসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বানের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে দক্ষতা, নৈতিকতা, কর্মসংস্থান এবং নিজ এলাকার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বার্তা। এখন দেখার বিষয়, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের বাস্তব সহযোগিতা ও সুযোগ তৈরি করা হয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন