নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও অপমানজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে কেন এই পুরস্কার নিয়ে এতটা ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, আর নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের পেছনে কী রয়েছে? শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, নিউইয়র্কের সিরাকিউসে এক নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, নাভি পিল্লাইয়ের নাম তিনি আগে কখনো শোনেননি এবং তাঁকে কেউ চেনেন না। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এই সিদ্ধান্তের জন্য নরওয়ে এবং পুরস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এক অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে।বক্তব্যে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত নিরসনে নিজের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে বক্তব্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ট্রাম্প।
প্রতি বছরের মতো এবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় নিজের হতাশা আড়াল করেননি তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার শত্রু একদল চরমপন্থী মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার কলঙ্কিত হয়েছে। এ ঘটনায় নরওয়েকে কখনো ভুলে যাওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে কার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত—এসব প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন