ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

সুরা আদিয়াতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

মানুষের জীবনে এমন এক অদ্ভুত হিসাব আছে, যেখানে প্রাপ্তির চেয়ে অপূর্ণতাই যেন বেশি চোখে পড়ে। অনেক কিছু থাকার
  • আপলোড সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
  • আপডেট সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
সুরা আদিয়াতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

মানুষের জীবনে এমন এক অদ্ভুত হিসাব আছে, যেখানে প্রাপ্তির চেয়ে অপূর্ণতাই যেন বেশি চোখে পড়ে। অনেক কিছু থাকার পরও মানুষ ভাবে—আরও চাই, আরও সম্পদ চাই, আরও সাফল্য চাই। এই চাওয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় ভুলে যায়, তার কাছে থাকা অসংখ্য নেয়ামত আসলে কার দান। মাত্র ১১ আয়াতের সুরা আদিয়াত মানুষের এই দুর্বলতার দিকেই অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


সুরাটি শুরু হয়েছে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ঘোড়ার দৃশ্যের মাধ্যমে। এরপর মানুষের একটি গভীর স্বভাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। এখানে ‘কানুদ’ শব্দের মাধ্যমে এমন মানুষের কথা বোঝানো হয়েছে, যে বিপদ-আপদ ও কষ্টের বিষয়গুলো মনে রাখে, কিন্তু আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামতের কথা সহজেই ভুলে যায়।


আমাদের জীবনে সুস্থতা, পরিবার, নিরাপত্তা, রিজিক, জ্ঞান এবং সময়—সবই আল্লাহর অমূল্য নেয়ামত। কিন্তু একটি অপূর্ণতা অনেক সময় মানুষকে এতটাই ব্যস্ত করে ফেলে যে, তার অসংখ্য প্রাপ্তির দিকে আর তাকানোর সুযোগ হয় না। অথচ সুরা আদিয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আল্লাহ যে নেয়ামত দিয়েছেন, সেটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাও কৃতজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থ পেয়েছি—তাই অন্যায় পথে ব্যয় করা যাবে না। জ্ঞান পেয়েছি—তাই তা মানুষের উপকারে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষমতা পেয়েছি—তাই দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম করা যাবে না। অর্থাৎ নেয়ামত যত বড়, তার সঙ্গে দায়িত্বও তত বড়।


সুরাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির বিপদ। অষ্টম আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ সম্পদের ভালোবাসায় অত্যন্ত প্রবল। ইসলাম সম্পদ অর্জনকে নিষিদ্ধ করেনি। হালাল উপায়ে উপার্জন করা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ সংরক্ষণ বৈধ। কিন্তু যখন সম্পদ মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে যায়, তখন সেটিই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশি আয়, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের প্রতিযোগিতায় মানুষ যেন নিজের নৈতিকতা ও পরকালের কথা ভুলে না যায়—সুরা আদিয়াতের এই শিক্ষা বর্তমান জীবনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদ মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু মানুষের হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ করবে না—এটাই হওয়া উচিত।


আর সুরাটির শেষ আয়াতগুলো মানুষকে এমন এক বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখান থেকে কারও পালানোর সুযোগ নেই। কবর থেকে মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং অন্তরের গোপন বিষয়গুলোও প্রকাশ করা হবে। সেদিন মানুষের প্রকাশ্য কাজের পাশাপাশি অন্তরের অবস্থাও আল্লাহর কাছে অজানা থাকবে না। মানুষের চোখ এড়িয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে কোনো কিছুই গোপন করা সম্ভব নয়। তাই শুধু মানুষের সামনে নিজেকে ভালো দেখানোর চেষ্টা নয়, নিজের অন্তরকেও পরিশুদ্ধ করা জরুরি।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা