দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি যেন আবারও ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, বৃষ্টি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬১ জন। গত বছরের একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৮ হাজার ২২৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ২০২ জন। চলতি বছরের একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ৪৮ জন বা প্রায় ২৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় ৪২০ জন এবং চট্টগ্রামে ৩৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তবে সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৩৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১১৬ জন। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ। সেখানে এ বছর ডেঙ্গুতে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সেখানে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৬৫০ জন।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি আরও অনুকূল হতে পারে। ফলে সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন