ঢাকা | |

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুট চালুর পরিকল্পনার
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুট চালুর পরিকল্পনার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।


চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিমান চলাচলের চাহিদা বাড়ছে এবং নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হবে।


তিনি আরও জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। চুক্তির বিষয়ে জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।


গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কৃষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


এদিকে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথাও জানান মাহদী আমিন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।


জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠকে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—দুই পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


তিনি বলেন, কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না। চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ। মাহদী আমিন জানান, আ

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?

ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?