ঢাকা | |

ন্যায্য ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান ড.সাইমুম পারভেজের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ন্যায্য অর্থায়নের দাবি
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
ন্যায্য ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান ড.সাইমুম পারভেজের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ন্যায্য অর্থায়নের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং দুর্যোগের পর দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।


বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘উন্নয়ন পুনর্বিন্যাস ও সহযোগিতা’ শীর্ষক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ফোরামের চেয়ার ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি। বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং জলবায়ু দুর্যোগের পর দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।


বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. সাইমুম পারভেজ বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রে ন্যায়বিচার, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সংহতি রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও উন্নয়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু ভবিষ্যতের কোনো সংকট নয়, এটি এখনই মানুষের অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। ঢাকা ঘোষণা ২০১১ থেকে ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা ২০২১ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বৈঠকে ‘ঝুঁকি থেকে সক্ষমতা’ চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান সাইমুম পারভেজ। পাশাপাশি জলবায়ুজনিত আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তাবিত ‘লাইফলাইন তহবিল’ কার্যকর করার প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থন জানান তিনি।


তার বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের বাস্তবতা। একটি বড় ধরনের দুর্যোগ কয়েক বছরের উন্নয়ন অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত ও কার্যকর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় থাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বানও জানান বাংলাদেশের এই বিশেষ সহকারী।


এ সময় তিনি বাংলাদেশের ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি ঋণ সংকটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঋণের চাপের কারণে অনেক জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে।


আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চারটি অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন সাইমুম পারভেজ। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল কার্যকর করে দ্রুত অর্থ ছাড়, ঋণ সহায়তা বাড়াতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং জলবায়ু জবাবদিহি জোরদারে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামত কাজে লাগানো। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা—এর মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। বক্তব্যের শেষে জলবায়ু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু কার্যক্রমকে সবার জন্য টেকসই ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?

ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?