ঢাকা | |

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণের বাজারে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে চাপ। একদিকে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার দীর্ঘ সময় তুলনামূলক
  • আপলোড সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫২ সময়
বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণের বাজারে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে চাপ। একদিকে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার দীর্ঘ সময় তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা। অন্যদিকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিও বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। তবে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের ওপর এখন সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সুদহার বেশি থাকলে সুদ থেকে আয় করা সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। আর ডলারের দাম বাড়লে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে যায়। এতে স্বর্ণের চাহিদাও কমতে পারে।


ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডার মতে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন করার মতো কাঠামোগত কারণগুলো এখনো শক্তিশালী রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নীতিও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বোস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তিনি গত সপ্তাহে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।


গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। বছরের শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নীতিও এখন বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোতে সুদহার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।


অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। আবার কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলে সেই নিরাপত্তা চাহিদা কিছুটা কমে যেতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বড় পরিবর্তন স্বর্ণের বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্বর্ণের চাহিদা নিয়ে এখনও আশাবাদী কিছু বিশ্লেষক। বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকার পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাজারকে সমর্থন দিতে পারে।


এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ স্বর্ণের বাজারে এখন একদিকে সুদহার ও শক্তিশালী ডলারের চাপ, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সমর্থন—এই দুই বিপরীত শক্তির টানাপোড়েন চলছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই স্বর্ণের দামের গতিপথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


সূত্র: রয়টার্স।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?

ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?