ইরানকে নিয়ে আবারও বড় ধরনের সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। একই সময়ে জাতিসংঘের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলার তথ্যও সামনে এসেছে। নিউইয়র্কে দেওয়া ৩৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত। একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি সামরিক পথেই এগোনো হবে—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সমঝোতা না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ‘ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে। আলোচনাটিকে তিনি ‘উৎপাদনশীল’ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাক্ষাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইরান ইস্যুর পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধটি দ্রুত বন্ধ করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও সামনে আসে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নতুনভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে অভিহিত করার কথা বলেন এবং প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে পিছিয়ে পড়বে না বলে দাবি করেন। গ্রিনল্যান্ড নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির আওতায় নতুন সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর শেষ সাধারণ পরিষদ ভাষণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বিভাজন, যুদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত—দুই ধরনের বার্তাই উঠে এসেছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ এখন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপরও নির্ভর করছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন