শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ২৩ জুলাই শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থাকে তাঁকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর তদন্ত সংস্থা মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরদিনও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি। এর ভিত্তিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দেন।
২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাশাপাশি দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাঁকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়ে করা হয়েছে। এই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও আসামি।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে আজকের শুনানির দিকে নজর রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন