পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিরোধ এবার সরাসরি আঘাত করেছে পতাকা ব্যবসায়ীদের। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের পুরোনো দলীয় নাম ও ঘাসফুল প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করায় হাওড়ার উনসানির এক পতাকা প্রস্তুতকারীর মজুত করা বিপুলসংখ্যক পতাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। উনসানি এলাকার পতাকা প্রস্তুতকারীদের মধ্যে রাজু হালদারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন ধরনের পতাকা তৈরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকের বিপুলসংখ্যক পতাকা তৈরি করে মজুত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর সেই পতাকাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নিয়ন্ত্রণ, নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছিল, উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও আলাদা প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক ছিল ঘাস ও ফুল। নির্বাচন কমিশনের নথিতেও দলটির সংরক্ষিত প্রতীক হিসেবে এই প্রতীক উল্লেখ রয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই ভোটকে সামনে রেখে প্রতীক নিয়ে জটিলতার কারণে আগে থেকেই তৈরি করা পতাকা ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এরই মধ্যে আরও পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের সঙ্গে খাম প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
ফলে আগে তৈরি করে রাখা ঘাসফুল প্রতীকের পতাকাগুলোর ব্যবসায়িক ব্যবহার নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই পতাকাগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, নাকি মজুত পণ্য হিসেবেই পড়ে থাকবে—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। একটি রাজনৈতিক প্রতীক নিয়ে বিরোধ যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি করছে—উনসানির পতাকা ব্যবসায়ীদের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন