ঢাকা | |

তেলের মজুত ফুরানোর শঙ্কায় সৌদি, বিশ্ব জুড়ে বড় ঝুঁকি

ইয়েমেনের হুতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে বড় ধরনের জ্বালানি
  • আপলোড সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময়
তেলের মজুত ফুরানোর শঙ্কায় সৌদি, বিশ্ব জুড়ে বড় ঝুঁকি

ইয়েমেনের হুতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ীরা। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিনের তেল সরবরাহ প্রায় ৪ শতাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব বাধ্য হয়ে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হতো। পরিমাণটি বিশ্বের মোট দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।


সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, পাইপলাইন বন্ধ থাকলে ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে দ্রুত পাইপলাইন সচল করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতায় বড় ধাক্কা আসতে পারে। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, পুরো মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি মেরামতের সময়ও আংশিকভাবে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হতে পারে।


হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রপ্তানি পথ হয়ে উঠেছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছিল এই পাইপলাইন। কিন্তু এবার সেই বিকল্প পথেও হামলা হওয়ায় সৌদি আরবের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ইয়ানবুর পাশাপাশি মিশরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে সীমিত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে। তবে এসব মজুতও পুরোপুরি পূর্ণ নয়। ফলে পাইপলাইন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিকল্প মজুতও একসময় শেষ হয়ে যেতে পারে।


এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাব বলছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত আগস্টে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিও দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। যুদ্ধের আগে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও গত আগস্টে তা নেমে এসেছে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেলে।


সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে শুধু দেশটির রপ্তানিই নয়, বিশ্ববাজারেও তেলের সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিতে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিসা নিয়ে বড় সুখবর, এক পারমিটেই ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর, এক পারমিটেই ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ