সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলার পর দেশটির কয়েকটি শহরে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে।
সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফ শহর লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, হামলায় আহত ১৩ জনের শরীরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া সাতটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছেন তুর্কি আল-মালকি। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে এসব হামলা প্রতিহত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার পর মঙ্গলবার ভোরে জেদ্দা, ইয়ানবু, তায়েফ, আবহা, জাজান ও আলউলা—এই ছয় শহরে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে জানিয়ে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সৌদি জোটের হামলার অভিযোগও তুলেছে হুথিরা। সোমবার হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এহিয়া সারিয়া দাবি করেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের পাঁচটি প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হুথিরা সতর্ক করে বলেছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি।
কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
বর্তমানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন