ঢাকা | |

ওষুধ ধার করে মশা নিধন চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, থামছে না মৃত্যুও। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ওষুধের ঘাটতিতে
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়
ওষুধ ধার করে মশা নিধন চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, থামছে না মৃত্যুও। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ওষুধের ঘাটতিতে পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শেষ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ধার নিতে হয়েছে ১৬ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক। গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটির কাছ থেকে এই কীটনাশক নিয়ে যায় দক্ষিণ সিটি। উত্তর সিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার মেলাথিয়নের দাম প্রায় ৪৫০ টাকা। সেই হিসাবে ধার নেওয়া ১৬ হাজার লিটার কীটনাশকের বাজারমূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা।


দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, এখন আর তাদের ওষুধের সংকট নেই। গত মঙ্গলবার থেকে নিজেদের কেনা কীটনাশক দিয়েই মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর সিটির কাছ থেকে নেওয়া কীটনাশক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। এতদিন উড়ন্ত মশা নিধনে দক্ষিণ সিটি ডেলটামেথ্রিন ব্যবহার করত। কিন্তু ঢাকার মশার ক্ষেত্রে এই ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে ঢাকা উত্তর সিটি মেলাথিয়ন ব্যবহার করছে। গবেষণাতেও ঢাকার মশার ওপর ডেলটামেথ্রিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।


এরপর দক্ষিণ সিটিও ডেলটামেথ্রিনের পরিবর্তে মেলাথিয়ন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মেলাথিয়নের নমুনা পরীক্ষাগারে উত্তীর্ণ না হওয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে মশক নিধন কার্যক্রম সচল রাখতে উত্তর সিটির কাছে কীটনাশক ধার চায় দক্ষিণ সিটি। এর আগে গত ২৪ আগস্ট দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৭০ হাজার লিটার পরিপক্ব মশা নিধনের কীটনাশক ধার চেয়ে চিঠি দেন। সেখানে বলা হয়, ঠিকাদারদের সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ ডেলটামেথ্রিন পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং মেলাথিয়ন সরবরাহের জন্যও আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগায় সাময়িকভাবে কীটনাশক ধার প্রয়োজন।


এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে এডিস মশার বিস্তার বাড়তে পারে। থেমে থেমে বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রানী ধর জানিয়েছেন, নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর বাহক মশার বিস্তার অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১৭ জন। শুধু ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৪ জন। আর আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু নিয়মিত মশা নিধন করলেই হবে না। কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে তার আশপাশের অন্তত ৫০০ গজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণসহ অন্যান্য কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। আর এবার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ডেঙ্গুর তৃতীয় ধরন ডেন-৩ ভাইরাসের উপস্থিতি। রোগীদের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের