ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে ফাঁস নিলেন পুলিশ সদস্য নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সহযোগিতার বার্তা সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দিতে হবে: ১১ দলীয় ঐক্য রাইস মিলের গুদামে ২১৭ বস্তা সার, মালিকের কারাদণ্ড নেপালে নিহত বেড়ে ১৫৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জনসহ নিখোঁজ চার শতাধিক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার নবীজির আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক নতুন শিক্ষানীতি নয়, ২০১০ সালের নীতি অনুসরণ করেই প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে সংস্কার ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ড্রোন পাঠাল চীন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে ভূমিকম্প ও হিমবাহ ধস

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালের এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে দেশটির অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • আপলোড সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ সময়
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে ভূমিকম্প ও হিমবাহ ধস

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালের এবারের বন্যা ও ভূমিধসকে দেশটির অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


হঠাৎ এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের পর লেন্দে নদীর ওপর থাকা বিশাল কোনো হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ায় বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। বরফ ও পাথরের ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে পানির আধার তৈরি হয়। পরে সেই বাধা ভেঙে জমে থাকা পানি ও বরফ প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলেই সৃষ্টি হয় আকস্মিক বন্যা। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে এই সময়ের ব্যবধান আরও যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।


মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদের ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। নেপালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, পাহাড় থেকে বিশাল একটি বরফখণ্ড ধসে পড়ে পাথর ও পলিমাটিসহ নিচে নেমে আসতে পারে। এতে নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়।


প্রবল পানির স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা। দুর্ঘটনার পর বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকের এখনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। এদিকে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লেন্দে নদীর উজানে মাটি ও বরফের স্তূপ আটকে থাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হলে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।


নেপাল থেকে প্রবাহিত কয়েকটি নদী ভারতে প্রবেশ করায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এলজিআরডি মন্ত্রী হলেন ড. আবদুল মঈন খান

এলজিআরডি মন্ত্রী হলেন ড. আবদুল মঈন খান