ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদির এক বছরের ওমরাহ ভিসা, তবুও প্রতিবার পূরণ করতে হবে বিশেষ শর্ত বাংলাদেশের মাটিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে চাই: ফয়জুল করীম কক্সবাজার সাগরপারে দখল হওয়া ১০ একর জমি উদ্ধার নেপালে কারিগরি ত্রুটি: ৭ ঘণ্টা বিলম্বিত বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির: গণঅধিকার পরিষদ এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে পুরো বাকিতে পণ্য আমদানির সুবিধা আওয়ামী লীগের সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ খান শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভ ভেঙে দেওয়া হলো ১০০ টাকায় ভাত-মাংস বিক্রি করা সেই ভাইরাল ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

গতি ফিরেছে পুলিশের কাজে, আক্রান্তও হচ্ছে

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে,
  • আপলোড সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়
  • আপডেট সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়
গতি ফিরেছে পুলিশের কাজে, আক্রান্তও হচ্ছে

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ। মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, তবে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে নিয়মিত হামলা ও বাধার মুখে পড়ছেন সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রে ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পুলিশের ওপর ২৭১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসেই পুলিশের ওপর ৮৭০টি হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীর জন্য তদবিরও বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি রাজারবাগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় পুলিশ সদস্যদের তদবিরের পেছনে না ছুটে মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


অভ্যুত্থানের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার চাকরি গেছে, আবার অনেকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে এখনো নানা দুর্বলতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশ সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনের আলোচনা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ সপ্তাহে বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় বাহিনীর ভেতরে বড় ধরনের সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়ে সারা দেশে ৪৬০টি পুলিশ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৮টি থানা ও ২৬টি ফাঁড়িসহ ২২৪টি স্থানে আগুন দেওয়া হয়। আরও ৫৬টি থানা ও ২৪টি ফাঁড়িসহ ২৩৬টি স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮টি গুলি লুট হয়। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত থানা ও ফাঁড়ি সংস্কার করে কার্যক্রম শুরু হলেও পুলিশ এখনো তীব্র যানবাহন সংকটে রয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ কমিশন গঠন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো দ্বিধা রয়েছে। তার মতে, মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং পুলিশ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। রাজধানীর আদাবরে অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হামলায় থানার ওসি ও এক এসআই আহত হয়েছেন। লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় স্থানীয়দের হামলায় এনডিসি, পুলিশ সদস্যসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সরকারি ছয়টি গাড়ি।


এর আগে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যান আটককে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও সদস্যদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন পক্ষের প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন। পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনতা, রাজনৈতিক পক্ষ, আসামির স্বজন এবং সংঘবদ্ধ দলও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িয়ে পড়ছে।


অন্যদিকে ‘মব’ তৈরি করে অপরাধী বা আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার প্রবণতাও বাড়ছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ৪৪ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও বাহিনীর ওপর চাপের মাত্রা তুলে ধরে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০০টি হামলার ঘটনায় পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে এমন ঘটনা ঘটেছে ৬০১টি।


তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলার ধরন বদলে গেছে। আগে নির্জন স্থান, রাতের আঁধার বা দূর থেকে হামলার ঘটনা বেশি হলেও এখন প্রকাশ্যেই পুলিশকে ঘিরে ফেলা, অভিযানে বাধা, মারধর, কুপিয়ে জখম, গুলি, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। শুধু পুলিশ নয়, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরাও বিভিন্ন অভিযানে হামলার শিকার হচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল, জনআস্থা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাতে ঘুম আসছে না? একজোড়া মোজাই হতে পারে সহজ সমাধান

রাতে ঘুম আসছে না? একজোড়া মোজাই হতে পারে সহজ সমাধান