ঢাকা | |

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক চাপ, পানিদূষণ,
  • আপলোড সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪৩ সময়
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মানসিক চাপ, পানিদূষণ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হচ্ছে।


মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই ইরানকে নতুন করে চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ বজায় রাখা হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি কার্যত বন্ধ।


ইরান আরও জানিয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৪০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এত দীর্ঘ সময় বন্দরে না ফেরায় রণতরিটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যানের মতে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা ও প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছে। এ কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট পিট হেগসেথ জানান, পর্যায়ক্রমে রণতরি পরিবর্তন করা হলেও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর মধ্যেই গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। আগামী ১৬ আগস্ট সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে আলোচনার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে।


সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও মঙ্গলবার সেখানে মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনে দৈনিক গড় জাহাজ চলাচলও ছিল প্রায় ১২টি। ফলে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। ফলে রণতরি বদলের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে আলোচনা শুরু হয়, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ে—এখন সেটিই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


সূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
নলডাঙ্গা কি শুধুই জমিদারি—ইতিহাস নতুনভাবে পড়ছেন ইমদাদুল হক সোহাগ

নলডাঙ্গা কি শুধুই জমিদারি—ইতিহাস নতুনভাবে পড়ছেন ইমদাদুল হক সোহাগ