২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দেওয়া বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার তৎকালীন ব্যাখ্যার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসঙ্গতির দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল, ডেটা সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড, ফাইবার অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়েছে। সে সময় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল।
পরে বিভিন্ন বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, বরং পরিস্থিতির কারণে সেবা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাগুলোতে ইন্টারনেট চালু ছিল এবং সরকার কখনোই ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পক্ষে নয়। তবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবেই কার্যকর করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ডেটা সেন্টার পুড়ে যাওয়ার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রধান প্রসিকিউটর জানান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন-সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব দাবি ও তদন্ত-সংক্রান্ত বক্তব্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কার্যক্রম এখনো চলমান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন