ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় একাধিকবার সমঝোতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সক্রিয় হস্তক্ষেপে আলোচনা অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সোমবার জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা যখনই অচলাবস্থার মুখে পড়েছে, তখনই সেনাপ্রধান যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, যুদ্ধ বিস্তারের ঝুঁকি এড়াতে সেনাপ্রধান ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন এবং কোনো পর্যায়েই আলোচনার প্রক্রিয়া ভেঙে যেতে দেননি। তার মতে, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ না থাকলে শান্তি প্রক্রিয়া সফল হতো না। জাতীয় পরিষদের বক্তব্যে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক দলের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও চীনের সহযোগিতাকেও উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার পথ তৈরি হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার সময় একাধিকবার আলোচনা প্রায় ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আবার সচল হয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমঝোতা সংক্রান্ত একটি ঘোষণায় চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং কিছু স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের অবস্থানকে আরও সক্রিয় হিসেবে তুলে ধরলেও আলোচনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন