তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে অতীতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিকে একটি বড় ধরনের ব্যয়বহুল ভুল হিসেবে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী রবার্ট ম্যালি এই সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে একই সঙ্গে তিনি আগের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে একটি বেপরোয়া ও ব্যয়বহুল বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ইউরেনিয়াম মজুত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এখনো পুরোপুরি অমীমাংসিত রয়েছে। এসব বিষয় সমাধান করা আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওবামা প্রশাসনের আরেক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বেন রোডসও এই সমালোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে মূলত এমন একটি নৌপথ পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা যুদ্ধের আগেও কার্যত উন্মুক্ত ছিল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন আলোচনার কাঠামো পূর্ববর্তী লক্ষ্যগুলোর তুলনায় আরও সীমিত পরিসরে চলে এসেছে।
বেন রোডস আরও মন্তব্য করেন, এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন