গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল। উদ্ধার সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতির কারণে এসব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, বর্তমানে যে উদ্ধার সরঞ্জাম রয়েছে তা অত্যন্ত পুরোনো এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং প্রতিদিনই নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য সামনে আসছে।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের কারণে এলাকায় ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটেছে, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে বাধা থাকায় উদ্ধার কাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে, যার মাত্র এক শতাংশ এখন পর্যন্ত সরানো সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, পুরো গাজা পুনর্গঠন ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মানবিক পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের এখন উপযুক্ত সময় এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিও রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজা ও পশ্চিম তীরে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও জাতিসংঘের তথ্য
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন