অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ২২ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) সহযোগী এবং এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমানের ২৩ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে ওই অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে।
ফ্রিজকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে- সিদ্দিকুর রহমানের নামে সিমটেক্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ টাকা মূল্যের মোট ১৬ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯০ টাকার ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৯টি শেয়ার, তার আত্মীয় মাহফুজা রহমানের নামে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৫০ টাকা, নিয়ার রহমান সাকিবের নামে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ইসতিয়াক রহমান ইমরানের নামে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং অপর আত্মীয় মো. ইনসাফ আলী শেখের নামে ১ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টাকার শেয়ার। সব মিলিয়ে ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।
দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, পি কে হালদার চক্র কিংবা এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুদক দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত যে পর্যায়েই হোক দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করে কারও সম্পদ ফ্রিজ বা ক্রোক করা দরকার, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তা করতে পারে। সম্প্রতি পি কে হালদার চক্রের একজনের কোম্পানির শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে ফ্রিজ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আলোচিত পি কে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এরমধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই মামলার বাকি ১৩ আসামিকে আদালত সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। গেল ৮ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন