তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে নানা আলোচনা শোনা গেলেও বাস্তবে সেই সম্ভাবনার ওপর এখন অনিশ্চয়তার ছায়া ঘন হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে না। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই পরিষ্কার ভাষায় এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের প্রশ্নই এখন উঠছে না। তবে সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইরান কূটনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় নয়। বরং দেশটি এখন ‘আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা’ কৌশলকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। এই নীতির অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি মিশর, পাকিস্তান এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
এই উদ্যোগ থেকে বোঝা যায়, ইরান বর্তমানে বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে টানাপোড়েনের বদলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক জোট গঠনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ। ইরানের দাবি, অতীতে যখনই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, ঠিক তখনই রাজধানী তেহরানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে তাদের কৌশলগতভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইরানের কূটনৈতিক মহল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যতদিন পর্যন্ত তাদের ওপর সামরিক চাপ ও বিমান হামলার ঝুঁকি থাকবে, ততদিন কোনো কার্যকর সংলাপের পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। তাদের মতে, একদিকে হামলা চালিয়ে অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন