চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের তৈরি সস্তা ও ধীরগতির ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনকে ধ্বংস করতে মিত্র দেশগুলো লাখ লাখ ডলারের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অনেকটা ‘মশা মারতে কামান দাগানোর’ মতো, যা দীর্ঘমেয়াদে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা লরেন কানের মতে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে হাজার হাজার সস্তা ড্রোন প্রতিহত করা দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভব নয়। সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের দাম ২০-৫০ হাজার ডলার, অথচ একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা আকাশে চালাতে খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত ‘এআইএম-৯এক্স সাইডউইন্ডার’ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং ‘এআইএম-১২০ অ্যামরাম’ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা ‘ফ্লাই গ্রুপ’-এর নির্বাহী আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি সতর্ক করে বলেন, সস্তা ড্রোনকে ধ্বংস করতে লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। ড্রোন মোকাবিলায় যুদ্ধবিমানের সার্বক্ষণিক ব্যবহার বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো জানান, ড্রোনের ধীর গতি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে এবং দীর্ঘ উড্ডয়ন বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন বাড়িয়ে দেয়। উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে মনোযোগ দিয়ে থাকলেও ছোট ও ধীরগতির ড্রোন মোকাবিলায় কিছুটা অপ্রস্তুত ছিল। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে ইরান প্রায় তিন হাজার ড্রোন ছুড়েছে, যার একটি বড় অংশ উপসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে।
সংকট কমাতে মিত্র দেশগুলো নতুন কৌশল ভাবছে। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে, যাতে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংসের খরচ প্রায় ‘শূন্য’ হবে। এছাড়া হেলিকপ্টার ও স্বল্পপাল্লার ভারী গুলির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইউক্রেনের তৈরি ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পাঠিয়েছে, যাতে সস্তা ড্রোন দিয়েই শত্রু প্রতিহত করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ড্রোন প্রতিরোধে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়; তেহরানের ড্রোন মজুত ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন