ঢাকা | |

কৌশলগত ভুলে দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত জয়ী হয়েছে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন ১৪ দিনে
  • আপলোড সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১০:৫ সময়
কৌশলগত ভুলে দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত জয়ী হয়েছে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন ১৪ দিনে গড়িয়েছে এবং থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় কৌশলগত ভুলের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে হামলার আগে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করা হয়নি।


খামেনি হত্যাকে কেন্দ্র করে ভুল হিসাব-

যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ওয়াশিংটনে ধারণা ছিল, সংঘাতটি দ্রুত শেষ হবে এবং কার্যত একতরফা হবে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেই দেশটির সামরিক বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে। খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের সামরিক বাহিনী আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে।


হরমুজ প্রণালির প্রভাব অবমূল্যায়ন-

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিকল্পনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া—বিশেষ করে প্রণালি বন্ধ করার হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এখন সেই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।


এদিকে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলতে হচ্ছে, যা যাত্রাপথে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় বাড়াচ্ছে এবং প্রতি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ বাড়াচ্ছে।


রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা-

মার্কিন প্রশাসন ধারণা করেনি যে, রাশিয়া ও চীন ইরানকে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে চীন ইরানকে উন্নত রাডার ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।


ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ কৌশল-

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ধাপে ধাপে হামলার কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমাগত সক্রিয় রাখতে বাধ্য করছে। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রতিপক্ষের জন্য বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অস্ত্র সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে এবং বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।


দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা-

যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এমনকি ওয়াশিংটনের ভেতরেও কিছু উপদেষ্টা এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হোয়াইট হাউসকে পরামর্শ দিচ্ছেন।ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত রাভানচি বলেছেন, তেহরানের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে আর কোনো দেশ যেন ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে না পারে। তাই প্রয়োজনে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।


সূত্র: বিবিসি, সিএনএন ও আল জাজিরা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ