ঢাকা | |

কেন রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইলো বাংলাদেশ?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ
  • আপলোড সময় : ১২ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়
কেন রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইলো বাংলাদেশ?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এই উদ্দেশ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার তেল আমদানি করতে বাংলাদেশ ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ অনুমতি বা 'ওয়েভার' চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। এই ধরনের বিশেষ অনুমতি সম্প্রতি প্রতিবেশী ভারতকেও দেওয়া হয়েছিল, আর বাংলাদেশও একই ধরনের সুবিধা প্রত্যাশা করছে।


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


এদিকে, কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাশিয়ার তেলের সঙ্গে লেনদেন করলে বাংলাদেশ কয়েকটি জটিলতার মুখে পড়তে পারে, যেমন: সেকেন্ডারি স্যাংশন: তৃতীয় কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের ওপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপ করতে পারে।


ব্যাংকিং ও লেনদেন জটিলতা: রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর সুইফট (SWIFT) থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডলার বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব। জাহাজ চলাচল ও বিমা: রুশ তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর বিমা এবং কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হয়, যা অনুমতি না থাকলে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।


এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে জিএসপি সুবিধা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে।মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেন জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের অনুরোধটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন এবং এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ