ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক প্রয়োজনের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্যত্র সরিয়ে নিতে চায়। যদিও সিউল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে, তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিশ্চিত হলো যে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পূর্ব এশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন গত সপ্তাহে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে সিউলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সব সময়ই সংবেদনশীল। অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার দক্ষিণ কোরিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করছে। এর আগেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তুরস্কের মালাতিয়া প্রদেশে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জার্মানির রামস্টাইন ন্যাটো ঘাঁটি থেকে আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টিকেও স্পষ্ট করে তুলছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন