ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশের ড্রোন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি দল আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যাবে। মূল লক্ষ্য হলো ড্রোন প্রযুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে দেখা। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পিএসি–৩ আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের ঘাটতিতে ভুগছে। কিয়েভের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সরবরাহ আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির বিনিময়ে ওই দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ ইউক্রেনকে দিতে পারে।
জেলেনস্কির মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা আরও সহজ হবে এবং তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্যও কার্যকর হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো ঠিক কী ধরনের সহায়তা চাইতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। জেলেনস্কি বলেন, বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার পথ খুঁজবেন।
রাশিয়া গত কয়েক বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। এর জবাবে ইউক্রেন তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছে, যা আকাশে আক্রমণকারী ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম বলে দাবি কিয়েভের। এর আগে শীতকালে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ইউক্রেনের অনেক বেসামরিক অবকাঠামো রুশ বিমান হামলার ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে তীব্র ঠান্ডার সময় লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ ও হিটিং সুবিধা ছাড়া অবস্থায় পড়েছিল।
তবে ইউক্রেনের কাছ থেকে এমন সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন