মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পাকিস্তানে জরুরি ভিত্তিতে একাধিক সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সোমবার (৯ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি খরচ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাসা থেকে ‘হোম অফিস’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমাতে সপ্তাহে অতিরিক্ত একদিন ছুটি বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবহন খাত অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান অস্থিরতায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় জ্বালানি সাশ্রয়ে এসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির জন্য তেলের বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি নতুন এসি, ফার্নিচার বা অন্যান্য বিলাসপণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং অন্য সব সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন শেহবাজ শরিফ।
সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন