ঢাকা | |

উত্তর কোরীয় নেতা কিম দোটানায়

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে একই সঙ্গে তারা ইরানের
  • আপলোড সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৪:৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৯ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৪:৩ সময়
উত্তর কোরীয় নেতা কিম দোটানায়

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে একই সঙ্গে তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির শীর্ষ কয়েকজন নেতার মৃত্যুর খবর এড়িয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা কাকতালীয় নয়। উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো অনেকটাই নেতার অজেয় ভাবমূর্তির ওপর দাঁড়িয়ে। অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার ঘটনা প্রচার করলে তা পিয়ংইয়ংয়ের সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন বার্তা দিতে পারে—যে শক্ত নিরাপত্তা বলয়েও থাকা নেতা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এখন একটি কৌশলগত দোটানার মুখে রয়েছেন। তিনি কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, নাকি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই নীরব থাকবেন—এ প্রশ্ন উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক অবস্থান থেকে হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপে রূপ নেওয়ার বিষয়টি কিম ও তার সামরিক নেতৃত্ব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।


অতীতে এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় তৎকালীন নেতা কিম জং ইল কয়েক সপ্তাহ জনসম্মুখে দেখা দেননি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কিম জং উন ইতোমধ্যে জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন এবং সামরিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি উত্তর কোরিয়ার নতুন যুদ্ধজাহাজ চো হাইওন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও পরিদর্শন করেছেন। তা সত্ত্বেও ইরানের ঘটনাবলি নিয়ে কিমের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার নিরাপত্তায় সাধারণত ছদ্মবেশী গাড়ির বহর, হঠাৎ ভেন্যু পরিবর্তন এবং একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবহার দেখা যায়। তার দেহরক্ষীদের কাছে বিশেষ ব্যালিস্টিক ব্রিফকেসও থাকে, যা গুলির সময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া পিয়ংইয়ং ও পাহাড়ি এলাকায় তার জন্য তৈরি করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার।


বর্তমান সময়ে কিম জং উনের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, তাদের কাছে এখন কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্কও শক্তিশালী হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার বিনিময়ে মস্কো থেকে খাদ্য, জ্বালানি ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে পিয়ংইয়ং। ২০১৯ সালের হ্যানয় সম্মেলনের অভিজ্ঞতাও এখনো কিমের মনে রয়েছে। সেই বৈঠকে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক প্রস্তুতি—দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।


সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে কিম জং উন আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তবে তার শর্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ