মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়াতে বিশেষ জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ১৮ লাখ (১৫১ দশমিক ৮ মিলিয়ন) ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই ঘোষণা দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর বিবৃতি অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে ১২ হাজার ‘বিএলইউ-১১০ এ/বি’ ধরনের সাধারণ বোমা সরবরাহ করা হবে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় ১ হাজার পাউন্ড। এর সঙ্গে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে।
এই অস্ত্র চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেপকন ইউএসএ’। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু সামরিক সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক মজুদ থেকেও সরাসরি সরবরাহ করা হবে। অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (বি) ধারা অনুযায়ী সাধারণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি হওয়ায় ইসরায়েল সরকারের কাছে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেসিসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় থেকেই এ বিষয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এর আগে গত জুলাই মাসে গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি ঠেকাতে ২৭ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ভোট দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব পাস হয়নি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন