ঢাকা | |

ইরানে হামলার প্রথম ৪ দিনেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ক্ষতির মুখে
  • আপলোড সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, বিকাল ৫:১৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, বিকাল ৫:১৩ সময়
ইরানে হামলার প্রথম ৪ দিনেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য ও গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার সিস্টেমে। প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


এর পাশাপাশি রোববার কুয়েতে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্নিকাণ্ডে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে যায়। বিমানগুলোর ছয়জন ক্রু প্রাণে বেঁচে গেলেও যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এগুলোর প্রতিস্থাপন ব্যয় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইরান বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলা চালায়। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি বড় স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব টার্মিনালকে এএন/জিএসসি-৫২বি স্যাটকম সিস্টেম হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।


আরও দাবি করা হয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে মোতায়েন করা একটি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার উপাদানও হামলায় ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী এর সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বিভিন্ন হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনায় প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর, এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি।


কুয়েতে আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটির কিছু স্থাপনার ছাদ ধসে পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে। ক্যাম্প আরিফজানে হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এ ছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় থাকা সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার চিত্র দেখা গেছে এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যদিও এতে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।


কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের কাছে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন আঘাত হানে। এতে পার্কিং এলাকায় আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ