ঢাকা | |

খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরাইলের গুপ্তচর, সঙ্গে সিআইএর আড়ি পাতার তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড। ইসরাইলি ও মার্কিন গোয়েন্দা
  • আপলোড সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরাইলের গুপ্তচর, সঙ্গে সিআইএর আড়ি পাতার তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড। ইসরাইলি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরানে এক গোপন বৈঠকের সময় মাত্র ৬০ সেকেন্ডের সমন্বিত হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে এই হামলায় ইরানের আরও অন্তত ৪০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, এই অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল বহু বছর ধরে। গত ছয় মাস ধরে এতে প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএসহ বিভিন্ন সংস্থা। খামেনির অবস্থান, চলাফেরা এবং তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।


গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, হামলার দিন ও সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সিআইএর তথ্য। ওই সময় তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বহু বছর ধরে ইরানের ভেতরে বিস্তৃত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। স্থানীয় তথ্যদাতা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল। তবে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইসরাইলের বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন, আবার অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এটি ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।


ইসরাইলি বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যান বলেন, ইতিহাস দেখিয়েছে—নেতাদের হত্যা করলেই কোনো সংগঠন বা শক্তি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। অনেক সময় সেই শূন্যস্থান আরও শক্ত প্রতিপক্ষ তৈরি করে। অন্যদিকে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ কোনো দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে সমস্যা শেষ হয় না, বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দেয়।


সব মিলিয়ে, মাত্র এক মিনিটের এই অভিযানের পেছনে ছিল বহু বছরের পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম। কিন্তু এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা এখনো পুরো বিশ্ব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ