ঢাকা | |

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ধারাবাহিক হামলার জেরে উপসাগরীয় কয়েকটি
  • আপলোড সময় : ৩ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১০:৩ সময়
  • আপডেট সময় : ৩ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১০:৩ সময়
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ধারাবাহিক হামলার জেরে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকায় অন্তত ছয়টি দেশ প্রতিরোধমূলক আঘাত হানার কথা ভাবছে। শুধু উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিও মিত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। যদিও আগে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে তেহরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি সংঘাতের পথেই এগোবে।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করলে পাল্টা আঘাত হানে ইসরায়েলও। এতে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জানিয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংসে তারা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।


তবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কিছু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং বহিরাগত শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়তে পারে।


সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে ‘মার্কিন ছাড়ের’ খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ