ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান-সমর্থিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিভিন্ন গোষ্ঠী একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের নেতা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তারা বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা বাড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াগোষ্ঠীগুলো। তারা বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, খামেনির উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় তার পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আলি লারিজানির নাম উঠে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন