ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের দিনসহ এর আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অন্যান্য যানবাহনের ওপরও সময়ভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক সাম্প্রতিক নির্দেশনায় জানানো হয়, তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ভোটগ্রহণের আগের মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রয়োজনে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, চিকিৎসা ও ওষুধ পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যান চলাচল অব্যাহত থাকবে।
বিমানবন্দরগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ও আন্তঃজেলা যাতায়াতে ব্যবহৃত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং তার নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট যানবাহন রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে চলাচল করতে পারবে। সাংবাদিক, জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবার আওতায় বিবেচনা করে বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দরসংযোগ সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনে অতিরিক্ত যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনারকে প্রদান করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন