কুমিল্লার মুরাদনগরে মক্তবে আরবি পড়া শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না সাত বছর বয়সী শিশু লিসা মনির। উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া মধ্যপাড়ার পিপিয়াপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাসেল মিয়া (২২) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয়রা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ওই গ্রামের মোচাগড়া পূর্ব গ্রাম সমিতির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে লিসা মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লিসা মনি মোচাগড়া গ্রামের মো. শরীফ মিয়ার মেয়ে। আটক যুবক রাসেল মিয়া একই গ্রামের রবি আলমের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে লিসার মা তানিয়া আক্তার মেয়েকে স্থানীয় মসজিদের মক্তবে পড়তে দিয়ে বাজারে যান। বাজার থেকে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় দুই শিশু জানায়, রাসেল মিয়া লিসাকে নিয়ে মোচাগড়া পূর্ব গ্রাম সমিতির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের দিকে গেছে। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ওই সেপটিক ট্যাংকে গিয়ে লিসার মরদেহ দেখতে পান। পরে ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন রাসেল মিয়াকে আটক করলে সে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাসেল মিয়া একজন নেশাগ্রস্ত যুবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পরিত্যক্ত ওই সেপটিক ট্যাংকের আশপাশে প্রায়ই সে নেশার আসর বসাত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি মো. হাসান জামিল খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন