বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য তিনি আজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু বর্তমানে যে বাস্তবতা তিনি প্রত্যক্ষ করছেন, তা কখনোই তার কল্পনার বাংলাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক হামলা কেবল গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আঘাত নয়, এটি সরাসরি গণতন্ত্র এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার ওপর আক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে শুধু সচেতন থাকাই যথেষ্ট নয়; অপশক্তির বিরুদ্ধে এখন সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা ঠিক কোন ধরনের বাংলাদেশে বসবাস করছি, তা বুঝে উঠতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, আজ আক্রমণের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট পত্রিকা নয়—ডেইলি স্টার বা প্রথম আলো নয়—বরং আঘাত এসেছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার আজ চরমভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জুলাই যুদ্ধের মাধ্যমে যে অধিকারগুলো অর্জিত হয়েছিল, সেগুলো এখন ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংকট শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, দেশের সাধারণ জনগণের জন্যও গভীর উদ্বেগজনক।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সংকটকালে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু সচেতন থাকলে চলবে না—এখন প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।
তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সংগঠিত সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ব্যর্থ হলে ক্ষতির মুখে পড়বে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, বরং পুরো জাতি।
সভায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংঘবদ্ধ সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন