১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনাসভায় এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-এর শিক্ষক হাফিজ আশরাফুল হক। এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠানটির কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এই সহযোগী অধ্যাপক।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন আশরাফুল।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধীমান কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সানজিয়া সুলতানা ও বিজয় ২৪ আবাসিক হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল আলিম বাছির। আলোচনাসভা সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রজ্ঞা পারমিতা বোস।
হাফিজ আশরাফুল হকের প্রায় এক মিনিট ৪২ সেকেন্ডের বক্তব্যের ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সভায় উপস্থিত অন্তত তিনজন নিশ্চিত করেছেন, ওই বক্তব্য আশরাফুলেরই। তবে উপাচার্য উপস্থিত থাকলেও বক্তব্যের সময় কেউ কোনো আপত্তি তোলেননি। এমনকি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় শিক্ষকরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
আলোচনাসভা শুরু হয় সকাল ১১টায়, চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে হাফিজ আশরাফুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে আরো অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা প্রয়োজন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পাকিস্তানি বাহিনী তখন নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে আত্মসমর্পণের দুই দিন আগে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারতো না। ওই সময় ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। মেধাবীরা বেঁচে থাকুক, সেটা তারা চাইছিল না।
পরিকল্পিতভাবেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অনেকেই পর্যালোচনার পর মনে করেন।
কালের কণ্ঠে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে হাফিজ আশরাফুল হক আরো বলেন, ‘এখন সময় এসেছে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পেছনের ইতিহাস পর্যালোচনার। ২৪-এর বিপ্লবে যেভাবে ভারত আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতায়, সেই চোখে দেখা ইতিহাস এবং ৭১-এর ঘটনা নানা কারণে বিকৃত হয়েছে। তাই প্রশ্ন জাগে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কি সত্যিই বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল? এই বিষয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর গবেষণা হওয়া উচিত, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।’
শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের আলোচনাসভায় হাফিজ আশরাফুল বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে সুশিক্ষায় রূপান্তর করতে পারা জাতিই প্রকৃত বুদ্ধিজীবী জন্ম দিতে পারে। সক্রেটিস, আবু সাঈদসহ বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা যায়, একটি বুলেটই যথেষ্ট। কিন্তু চিন্তাকে হত্যা করা যায় না।’
আশরাফুলের অভিযোগ, বাংলাদেশে যাঁরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত, অনেক সময় প্রকৃত অর্থে তাঁরা বুদ্ধিজীবী নন। নিজের অজ্ঞানতা স্বীকার করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত জ্ঞানের জন্ম হয়, সক্রেটিসের উদাহরণ দিয়ে এ কথাটি তিনি তুলে ধরেন। আশরাফুল বলেন, ‘দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী দলীয় পরিচয়ের বাইরে চিন্তা করতে পারেন না, বুদ্ধি বিক্রি করে সুবিধা নেন এবং মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করেন।’
সবশেষে আশরাফুল বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিষয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্যে, ‘যারা হত্যা করেছে, তাদের দিকে আরেকবার তাকান। নিশ্চিতভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন