গত শনিবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬ টায় অনেকটা আকস্মিকভাবেই ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ইসরায়েল সীমান্তে আক্রমণ করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ৯০০, আহত দুই হাজারের বেশি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৫৬০, আহত হাজারের বেশি।
তবে, এ যুদ্ধে লেবাননে বসবাস করা কয়েকটি ফিলিস্তিনি উপদল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত। পাশে আছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত শিয়াপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। যোদ্ধা এবং বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শরণার্থীশিবির বুর্জ আল-বরাজনেহতে বসবাস করেন ফিলিস্তিনি পার্টি ফাতাহ-এর সদস্য আহমেদ হাবেত।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইসরায়েল যেখানেই যুদ্ধ করতে চায়, সেখানেই যুদ্ধ হবে। আমি আমার মাতৃভূমির জন্য রক্ত দিতে প্রস্তুত।
ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ সংঘটিত হোক—এমনটাই চায় লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি উপদলগুলো। এই যুদ্ধ লেবানন ও এই অঞ্চলকে একটি বিপর্যয়মূলক সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।
লেবাননে হামাস শাখার কর্মকর্তা আহমেদ আবেদের মনে করেন, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় হামলা জোরদার করলে হিজবুল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণও চালাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ফিলিস্তিনে হামাসের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং তারা সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করবে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের বৈরুতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিকোলাস ব্লানফোর্ডের মতে, হিজবুল্লাহ ইচ্ছে করলেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করতে পারে। তাদের কাছে অত্যাধুনিক অনেক সরঞ্জাম রয়েছে।
তিনি জানান, ইসরায়েলে হামাস যে হামলাটি করেছে তা হিজবুল্লাহর গাইড বই অনুসরণ করেই করেছে। ব্যবহৃত বিভিন্ন কৌশলগুলোও হিজবুল্লাহর ।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ভবিষ্যদ্বাণী না করলেও এ ধরনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ব্লানফোর্ড।
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন