ঢাকা | |

আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীতের তীব্রতাও। ফলে এ জেলার মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে
  • আপলোড সময় : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১১:৪২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১১:৪২ সময়
আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা ছবি : সংগৃহীত

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীতের তীব্রতাও। ফলে এ জেলার মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা নামছে ক্রমাগতভাবে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 


গত ১ সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির ঘরে। হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস এখনো বইতে শুরু না করলেও ভিন্ন মাত্রায় শুরু হয়েছে শীত। সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে আসায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে শুরু করেছে। 


এদিকে আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণে বাড়তে শুরু করেছে শীতজনিত রোগ। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।


স্থানীয়রা জানান, দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে মূলত কার্তিকের শুরু থেকেই শীতের আগমন হয়। আর কার্তিকের শেষ থেকে শীত জমে উঠে। ইতোমধ্যে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গিয়ে অধিক শীত অনুভূত হচ্ছে।


পরিবেশবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু বৈচিত্র্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এরই প্রভাবে শীতের সময়ের কাঙ্ক্ষিত শীতের দেখা মিলছে না। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রভাব আরও বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জিতে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে।


চিকিৎসকরা বলছেন, দিন-রাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্য শরীরের ওপর চাপ ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই এই সময়টাতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।


এ নিয়ে কথা হয় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিনশ রোগী বহির্বিভাগে আসছে। এদের মধ্যে ২০-২৫ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।


তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, চলতি সপ্তাহে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করছিল। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। চলতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।


পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, যেহেতু প্রতি বছর এ জেলায় শীতের তীব্রতা বেশী থাকে তাই অসহায় মানুষেরা যাতে দুর্ভোগে না পড়েন তার জন্য শীতবস্ত্র কার্যক্রম চলছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল

'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল