ময়নসিংহের ভালুকা এলাকায় মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য থ্রি-হুইলার। মহাসড়কে এই যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর তেমন প্রভাব পড়ছে না। বরং অদক্ষ চালকেরা দ্রুতগতির যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চালাচ্ছে এসব থ্রি-হুইলার। থ্রি-হুইলারের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি, সিস্টোর, ভালুকা, বাস স্ট্যান্ড, ভালুকা সরকারি কলেজ ভরাডোবা এলাকায় গিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অনবরত এবং অবাধে চলাচল করে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা চালকেরা যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্যে জটলা করে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ সড়কের উভয়পাশের অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে, দূর পাল্লার যানের স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে উল্টা পথে যাতায়াতকারী যানের কারণে দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি হয়।
এছাড়াও এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল ও চালকদের অনেকের দক্ষতা না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। নিয়ম না জানায় অটো চালকেরা ইউটার্ন নেওয়ার সময়ও সমস্যা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বরত পুলিশের সামনেই চলাচল করে তিন চাকার যানগুলো। কখনো কখনো পুলিশের অভিযানের মুখে এসব যানের চলাচল স্বল্প সদয়ের জন্যে কমে যায়।
আবার, অভিযান থেমে গেলেই থেমে গেলেই ফিরে আসে আগের অবস্থা।
একটি সূত্র জানায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে ভরাডোবা ইউনিয়নের ভরাডোবা বাস স্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার থ্রি-হুইলার যাতায়াত করে। এদিকে, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ভালুকা সরকারি কলেজ এলাকায় মাটির হোটেলে খাবার-দাবার সেরে অটোরিকশায় করে ভালুকা পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার বাসায় ফিরছিলেন জামায়াত নেতা মো. মোফাখ্খারুল আলম। ওই সময় মহাসড়কের কলেজ এলাকায় ইউটার্ন নেওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গাড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী একাধিক বাসচালক বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের যাতায়াতের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের গাড়ি চালাতে খুবই সমস্যা হয়। গাড়ির স্বাভাবিক গতিও ব্যাহত হয়। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় বেশি লাগে।’ শ্যামগঞ্জের মোশারফ হোসেনসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘সড়কে হাজার হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। তাই পেটের দায়ে তারাও চালাচ্ছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, পুলিশ তাদের যখন তখন আটক করে, মামলা দেয়। পুলিশ মামলা দিলে ২৪০০ টাকা দেওয়া লাগে। আর, কথা বলে, এক দেড় হাজার টাকা দিলে মামলা না দিয়েই ছেড়ে দেয়। কি করব? পেটের দায়, গাড়ি না চালালে স্ত্রী, সন্তানদের খাওয়াব কি?
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের যাতায়াত বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে। থ্রিহুইলার ধরে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার (২২ অক্টোবর) র্যাব, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে ভালুকা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৪টি অবৈধ যানের বিরুদ্ধে মামলা ও ২টি অবৈধ যান আটক করা হয়েছে। টাকা নিয়ে থ্রি-হুইলার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অবান্তর।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন