ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শিশু হাসপাতালের কক্ষে বসে চিকিৎসকের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শাহজালালে এখন পর্যন্ত ১১৪ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৭,৭০১ যাত্রী খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশ অচলকারীদের সঙ্গী বর্তমান বিরোধী দল: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি ‘ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার, নিশ্চিন্তে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন’ জুলাই সনদ পাশ কাটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: আলী রীয়াজ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত সব হাসপাতালের লাইব্রেরিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা ৩ বই রাখার নির্দেশ কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অ’গ্নিকাণ্ডের পর লাপাত্তা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠক

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মিনি মৎস্য হ্যাচারি ৭ বছর ধরে বন্ধ: পোনা সংকটে চাষীরা

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় অবস্থিত মিনি মৎস্য হ্যাচারি দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। ফলে একদিকে
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:১৩ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:১৩ সময়
খাগড়াছড়ির রামগড়ে মিনি মৎস্য হ্যাচারি ৭ বছর ধরে বন্ধ: পোনা সংকটে চাষীরা ছবি : সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় অবস্থিত মিনি মৎস্য হ্যাচারি দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। ফলে একদিকে পোনা ও রেণু সংকটে ভুগছেন স্থানীয় মৎস্য চাষীরা, অন্যদিকে অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো। এ অবস্থার দ্রুত সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান সংশ্লিষ্টরা।


তথ্য বলছে, রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় ১৯৮৫ সালে স্থানীয়ভাবে রেণু ও পোনার চাহিদা মেটাতে এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্মিত হয় হ্যাচারি। কিন্তু শুরু থেকেই পরিচালনা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এটি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের—এ দ্বন্দ্বে কেটে যায় দীর্ঘ ২০ বছর সময়। ২০০৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে “মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে তিন ধাপে হ্যাচারীটি চালু রাখা হলেও ২০১৮ সালের জুন থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, হ্যাচারিতে প্রায় ৩ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে ১০টি পুকুর। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে সেগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাম্প, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ হ্যাচারীর মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো।


প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে হ্যাচারীতে পড়ে আছেন কেবল আব্দুল মান্নান নামে একজন পাম্প অপারেটর। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বেতন নেই। স্থানীয় হওয়ায় কর্মকর্তাদের আশ্বাসে প্রকল্প পুনরায় চালু হলে কর্মসংস্থানের আশায় পড়ে আছেন। এলাকায় চায়ের দোকান এবং টমটম চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।


খাগড়াছড়ি মৎস্য অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় প্রতি বছর মাছের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৭৪৪ মেট্রিক টন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৭৫৬ মেট্রিকটন। ফলে জেলার বড় অংশের মাছ বাইরের এলাকা থেকে সরবরাহ করতে হয়। স্থানীয় চাষীরা বলছেন, রেণু ও পোনার সংকটই তাদের প্রধান বাধা। জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার মৎস্য চাষী কল্যাণ মিত্র ত্রিপুরা জানান, “আমাদের এলাকায় পোনার সহজলভ্যতা নেই। অন্য জেলা থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়, লাভ কমে আসে।”


আরেকজন চাষী বলেন, “রামগড় হ্যাচারি যদি আবার চালু করা যায় তাহলে আমাদের খরচ কমবে, উৎপাদন বাড়বে। এতে স্থানীয় চাহিদার বড় অংশ মেটানো সম্ভব।”


খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ বলেন, “পোনা সংকটের কারণে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রামগড়ের হ্যাচারি চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।”


খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, রামগড় হ্যাচারি চালুর ব্যবস্থা দ্রুত নেয়া হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতে এখন আন্দোলন করতেও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা

ভারতে এখন আন্দোলন করতেও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা