চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই নম্বর গেট এলাকায় শনিবার রাত ১২টার দিকে এক ছাত্রীকে দারোয়ানের থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদে জড়ো হলে স্থানীয়রা তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত পেরিয়ে রোববার দিনভর থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ব্যর্থ থাকে। এই উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীসহ দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও দুই সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, নিরাপত্তা দপ্তরসহ বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ রোববার বিকেল পর্যন্ত চলতে থাকে। স্থানীয়রা বিভিন্ন আবাসিক ভবনের ছাদে শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের সবাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি’র এক কেন্দ্রীয় নেতাও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়েছে। যাকে এরমধ্যে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনটি। সংঘর্ষের কারণে রোববার সকল ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী অবস্থান করছে এবং অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। রোববার বেলা তিনটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘটনার যেভাবে শুরু
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং এলাকায় অনেক ভবনে শিক্ষার্থীরা ভাড়ায় থাকেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে বাসায় প্রবেশের জন্য আসেন সুফিয়া খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী। দেরিতে আসার অজুহাত দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে রাত ১২টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন ওই ভবনের দারোয়ান স্থানীয় বাসিন্দা। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে গেট খুলে ওই ছাত্রীকে মারধর করে দারোয়ান। পরে ওই ছাত্রী তাঁর কয়েকজন সহপাঠীকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়। তারা এসে দারোয়ানের ওপর চড়াও হন। তারা দারোয়ানকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে দ্রুত ওই বাসা থেকে বের হয়ে যান। ছাত্রীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ভবনে থাকা আরও শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। এ সময় ওই দারোয়ানের পক্ষে থাকা লোকজন শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যায় এবং ইট-পাটকেল মারা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাফিয়া খাতুন বলেন, আমাদের বাসার গেট রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। আজকে কাজে বাইরে গিয়েছিলাম, ১১টার দিকে ফিরে এসে দেখি গেট বন্ধ। আমি অনেকবার ধাক্কা দিয়েছি, কিন্তু দারোয়ান গেট খুলছেন না। আমার রুমমেটরাও দারোয়ানকে গেট খুলে দিতে অনুরোধ করেছে, কিন্তু দারোয়ান খোলেনি। পরে গেট খুলে আমাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ ব্যবহার করে। ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে দু’বার আমাকে ধাক্কা দেয়। জোর করে ঢুকতে চাইলে তিনি আমাকে লাথি ও থাপ্পড় মারে।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো করা হয় স্থানীয়দের
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা শুরুর পরপরই ওই এলাকায় বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় এলাকাবাসী যেন দা, কিরিচ নিয়ে বের হয়ে আসে। এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসীরা নাকি হামলার জন্য এসেছে। এমন ঘোষণার পরপরই জোবরা গ্রামের হাজারো মানুষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বাসা থেকে বের করে কোপানো শুরু করে। হামলার সময় দুই নম্বর গেইট এলাকার পূর্বপাশে বাচামিয়ার দোকানের সামনে আহত সহপাঠীদের উদ্ধার করতে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে হামলা করা হয়।
হামলায় জড়িতদের হাতে ধারালো অস্ত্র
জোবরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে রামদা, কিরিচ ও ছোরা দিয়ে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কলেজের ক্যাজুয়েলিটি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পিঠে, পেটে, হাত ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে সেলাই প্রয়োজন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যাললয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এ হামলায় তারা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে। শত শত লোকের হাতে ধারালো অস্ত্র তাৎক্ষণিক আসার কথা নয়। এ হামলার জন্য পরিকল্পনা ছিল বিধায় তাদের প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় আলাওল হলের পূর্বদিকের ধানে জমিতে ফেলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উপুর্যূপুরি কোপানো হয়। এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোবরা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা বলেছিলাম স্থানীয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগকে গ্রেপ্তার ও তাদের বিচার করতে। হানিফ বাহিনী, শামিম বাহিনী, আ জ ম নাছির বাহিনী ও মহিউদ্দিন বাহিনীর ক্যাডাররা এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তারা নিরীহ ছাত্রদেরকে মেস থেকে বের করে পিটিয়েছে।
কুপিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের
দেশীয় ধারলো অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে আহত করে অনেক ভবনের ছাদে তুলে শিক্ষার্থীদের ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমন নির্মম ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আর ঘটেনি বলে জানিয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক শিক্ষার্থীকে ছাদে তুলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। কয়েকজন মিলে তাকে ছাদের কিনারায় নিয়ে যায়। এরপর একজন তাকে পেছন থেকে লাথি মেরে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘর্ষ থামাতে গেলে আহত হন প্রক্টর, দুই উপ উপাচার্য
রোববার সকালেও জোবরা গ্রামের স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ওপর হামলা শুরু করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, উপ উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খান, প্রক্টর প্রফেসর ড. তানভীর হায়দার আরিফ, নিরাপত্ত প্রধান, ১০-১২ জন নিরাপত্তা প্রহরী আহত হন। এ সময় স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তানভির হায়দার আরিফের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, উপ উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খান স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার তথ্য
রাত ৮টার দিকে চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ফারহানা পারভীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে চবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১৫শ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, আর ২ জন আইসিইউতে ভর্তি আছেন।
সাংবাকিদের ওপর হামলা
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন দেশ টিভির মোহাম্মদ নাজিম, দীপ্ত টিভির লতিফা আনসারি রুনা, এটিএন নিউজের মুনিরুল ইসলাম পারভেজ, ক্যামেরাপার্সন হাসানউল্লাহ, আরটিভির ক্যামেরাপার্সন ইমু, দীপ্ত টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট সায়মন আল মুরাদ, সময় টিভির নুর আতিক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাপার্সন পিয়াল ঘোষ, এখন টিভির ক্যামেরাপার্সন পারভেজ, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সিফাত উল্লাহ সিফাত সহ আরও বেশকয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী।
হামলার নেতৃত্ব দেয় ছাত্রলীগ, উস্কানি দেয় বিএনপি নেতা
শনিবার রাত থেকে শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগ দিয়ে বিএনপি স্থানীয় কিছু নেতা হামলায় উস্কানি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রোববার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিরাপত্তা দপ্তরের তালা ভেঙে অস্ত্র নিলো একদল শিক্ষার্থী
রোববার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে চবির নিরাপদ দপ্তর থেকে প্রায় ১০০ রামদা, কিরিচ নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুপস্থিতি ও জোবরা গ্রামে আটকেপড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে যাওয়ার জন্য এসব দেশীয় অস্ত্র নেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার নূর উদ্দিন বলেন, উপ-উপাচার্য কামাল স্যার, নিরাপত্তা প্রধানসহ আমরা তাদের অনেক বুঝিয়েছি। তবুও অনেকে না বুঝে তালা ভেঙে এগুলো নিয়ে গেছে। ৫ আগস্টের পর হল তল্লাশি করে ছাত্রলীগের ফেলে যাওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগের তীর বাগছাস নেতাদের দিকে
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, শনিবার রাতে ও রোববার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) কয়েকজন নেতা সমঝোতার দিকে না গিয়ে ছাত্রদের উসকানি দিয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে সমঝোতা করে যখন চলে আসছিলাম, ঠিক তখনই বাগছাসের অতি উৎসাহী কিছু নেতাদের উসকানিতে ছাত্ররা ইট মারতে শুরু করেন। তাদের ছোড়া ইট উপ-উপাচার্য কামাল স্যারের হাতে লাগে।
এ ব্যাপারে চবি বাগছাসের আহ্বায়ক মুনতাসীর মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতিটাই এমন ছিল। কেউ উত্তেজিত ছিল, কেউ ম্যাচিউর আচরণ দেখিয়েছে। সব পরিস্থিতিতে সবাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তবে একপাক্ষিকভাবে একটা দলের ওপর অভিযোগ দেওয়া অনুচিত মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত
রোববার ও সোমবারের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সোমবারের স্থগিতাদেশ নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও সেনা কেউ এগিয়ে আসেনি। এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বাঁচার জন্য বারবার ফোন করেছি, মেসেজ দিয়েছি, কিন্তু কেউ আসেনি। রক্ত ঝরার পর বিকেলে বাহিনী এসে দায়সারা টহল দিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা হেলমেট পরে আমাদের ছাত্রদের ধরে ধরে কুপিয়েছে। আমরা রাত থেকে প্রশাসনের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করেও তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমাদের শত শত শিক্ষার্থী মেডিকেলে কাতরাচ্ছে।
এদিকে জোবরা এলাকায় স্থানীয়রা জানায়, যুবলীগ নেতা হানিফের অনুসারী সন্ত্রাসীরা সরাসরি ধারালো অস্ত্র হাতে এ হামলায় অংশ নেয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পরও হানিফের নেতৃত্বে ছাত্রদের উপর হামলা হয়।
রাতে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবিদ বলেন, রাতে সংঘর্ষের সময় আমাদের ডাকা হয়েছিল। আমরা রাত ৩টায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। পরে উপাচার্য মহোদয়ের পরামর্শে আমরা চলে যাই। সকালে ঘটনা আবার শুরু হলে ফরমালি ডাকা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারি না।
তিনি আরও জানান, এখন ক্যাম্পাস স্বাভাবিক আছে। র্যাব ও পুলিশ কাজ করছে।
কিন্তু সেনাবাহিনীর আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তো শেষ পর্যায়ের জন্য। পুলিশের দায়িত্ব ছিল অতিরিক্ত বাহিনী এনে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ থামানো। কিন্তু পুলিশ ৫-৬ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে ছিল না, আমাদেরও জানায়নি।
অন্যদিকে জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. রাসেল বলেন, আমরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ছিলাম, এখনো আছি, মিটিং করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন