দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর চুরির ঘটনার সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪২ নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নয়, তালিকায় এই ৪২ জন ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিজিবি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নামও রয়েছে।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যে এদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে দেওয়া প্রতিবেদনে অনুসন্ধান নথি চালুর অনুমতি চাওয়া হয়েছে।দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি পেলে এদের প্রত্যেকের বিষয়ে আলাদা তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে দুদকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি। তারা এ প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর জানিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এছাড়াও জামায়াত ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের অসাধু ব্যাক্তিদের যোগসাজশে সাদাপাথর এলাকার পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ আগস্ট দুপুরে দুদকের সিলেট সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফি নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি টিম ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যবেক্ষণ করে। এর ঠিক ৭দিন পর তাদের তদন্তে উঠে আসে রাজনৈতিক দলের ৪২ জনের নাম।
৪২ জনের তালিকার মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ২০ জন, জামায়াতের ২ জন, এনসিপি ২ জন, আওয়ামী লীগের ৭ জন। এছাড়াও আরও ১১ জনের নাম রয়েছে।
বিএনপির ২০ জন
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সদস্য হাজী কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু (পাথর ব্যবসায়ী), সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার (পাথর ব্যবসায়ী), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ (পাথর ব্যবসায়ী), জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, সাজন মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মী জাকির হোসেন, সদস্য মোজাফর আলী, মানিক মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরাণ, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ (বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সিলেট জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বকস।
আওয়ামী লীগের ৭ জন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া (পাথর ব্যবসায়ী), শাহাবুদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), গিয়াস উদ্দিন (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল ওদুদ আলফু, কর্মী মনির মিয়া, হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২ জন
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সিলেট জেলার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি ২ জন
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও মহানগর প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
বাকি আরও ১১ জন
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের আনর আলী, উসমান খাঁ, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন, আরজান মিয়া, মো. জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম ও সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলার জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুকাররিম আহমেদ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দীন বলেন, কোন ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই এবং কোন দিন ছিলও না। ইনশাআল্লাহ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে ফাসানো যাবে না। সত্যের জয় চিরন্তন। দলটির সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ডেকেছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমি কেন, আমাদের দলের কোনো পর্যায়ের ব্যক্তি এখানে জড়িত নয়।যদি এভাবে জড়ানো হয় তাহলে এটা উদ্দেশ্যমূলক এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এটি একটি অপপ্রয়াস।
দলের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরীর কুদরত উল্লাহ মার্কেটের ২য় তলায় মহানগর কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
এদিকে দুদকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার বিকেলে সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, কোনোভাবেই এই অপকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরও বলেন, যারা এ মিথ্যা তথ্যটি পরিবেশন করেছেন, তাদের এটি প্রমাণ করতেই হবে অথবা এ ধরনের মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এ ধরনের ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং গুজব ছড়ানোর জন্য তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন