জাতীয় নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। কোনো অবস্থায়ই মাঠ ছাড়বে না দলটি। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিএনপির সমমনা জোট ও দলগুলো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা একমত। কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের মুক্ত করতে তারা চালিয়ে যাবে আইনি লড়াই। দলের নীতিনির্ধারক মহল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে বিশাল ‘শোডাউন’ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ এ সমাবেশে সর্বোচ্চসংখ্যক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আশপাশ জেলার নেতাদেরও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে ঢাকা ছাড়াও নয়টি সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে সমাবেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই ঢাকাসহ অন্তত দু-তিনটি বিভাগে এ সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। পরদিন শুক্রবার সব সাংগঠনিক জেলার নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করেন স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য। এতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে তাঁদের পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। আগের দিনের স্থায়ী কমিটির সভায় ‘৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের ডাকে সাড়া দেওয়া’য় সর্বস্তরের মানুষকে আবারও ধন্যবাদ জানানো হয়। এ সময় আবারও মাঠের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সভায় নানা ধরনের কর্মসূচির প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও সমাবেশই এ মুহূর্তে (সময়ে) কার্যকর কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সমাবেশের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন বেশির ভাগ সদস্য।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর এর আগেই অন্তত তিন থেকে চারটি বিভাগে সমাবেশ হতে পারে। আজকালের মধ্যেই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সূত্র জানান, ঢাকা অথবা রাজশাহী থেকে এ সমাবেশ শুরু করা হতে পারে। তবে যেখান থেকেই প্রথম শুরু করা হোক না কেন, রাজধানী ঢাকার সমাবেশের দিকেই মূল ফোকাস থাকবে বিএনপির।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকারের পদত্যাগের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি মাঠ ছাড়বে না।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, জনগণ ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জন করে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে- তারা বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গেই আছে। তাঁর ভাষায়, অবৈধ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই কর্মসূচি শুরুর মাধ্যমে জনগণকে তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হবে।
বিএনপি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না। জাতীয়, স্থানীয়সহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত বিএনপি ইতঃপূর্বে নিয়েছে, এখনো সেই একই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে দলটি। দলের পরিচয়ে কেউ এ নির্বাচনে অংশও নেবে না। তবে কোনো এলাকার কোনো নেতা যদি ব্যক্তিগতভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সে ক্ষেত্রে দল থেকে বড়জোর তাকে (অফিশিয়ালি) বহিষ্কার করা হতে পারে। এর চেয়ে বেশি কঠোর সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থাও তার বিরুদ্ধে এবার নেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় পর্যায়ের ‘এ নির্বাচনে বিএনপি দলগতভাবে যাবে কিংবা যাবে না’, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন