ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

এবার আইইডিসিআরে ‘মব’ করে পরিচালককে মারধর

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মব সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই ঘোষণা সত্ত্বেও বন্ধ
  • আপলোড সময় : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৩৭ সময়
  • আপডেট সময় : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৩৭ সময়
এবার আইইডিসিআরে ‘মব’ করে পরিচালককে মারধর

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মব সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই ঘোষণা সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না দলবদ্ধ হামলা, গণপিটুনি ও জোর করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও ঘটছে এমন হামলা। প্রশ্ন উঠছে, কঠোর অবস্থানের ঘোষণা থাকার পরও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না মবের সংস্কৃতি?


সর্বশেষ বুধবার রাজধানীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এই ঘটনার জন্য বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কর্মীদের দায়ী করেছেন। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলার পেছনের অভিযোগ ও দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, আনন্দ মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়। ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন।


এদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে কয়েক দফা মারধরের পর তার মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজধানীর মিরপুরে একটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুধু রাজনৈতিক কার্যালয় নয়, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও আদালতেও ঘটেছে দলবদ্ধ হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা। মব সহিংসতার ব্যাপকতা বোঝা যায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যানেও। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৫৩৭টি মবের ঘটনায় ২৫৬ জন নিহত এবং ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৫ সালে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪২৮টি, আর ২০২৪ সালে ছিল ১৬৯টি।


অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৭১ জন। আবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৭ জন। বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে সময়সীমা ও ঘটনার সংজ্ঞা আলাদা হওয়ায় সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবের সঙ্গে এসব সংগঠনের তথ্যের মিল নেই। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মব সহিংসতার ঘটনা ও প্রাণহানি কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সম্প্রতি বলেছেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগের তুলনায় এ ধরনের সহিংসতা কমেছে।


কিন্তু একের পর এক হামলার ঘটনা মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। অভিযোগ উঠলেই কাউকে মারধর করা, কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো কিংবা দলবদ্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া—কোনোটিই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। মব সহিংসতা বন্ধ করতে হলে শুধু কঠোর বক্তব্য নয়, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করাও জরুরি।


কারণ, আইন যদি নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা চলতেই থাকে, তাহলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকেই যাবে—দলবদ্ধ শক্তির কাছে আইন ও বিচারব্যবস্থা কি বারবার অসহায় হয়ে পড়বে?

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু